Founder & Donor Information

প্রতিষ্ঠাতাঃ

মরহুম আলহাজ্ব শামসুল হক রহমাতুল্লাহি আলাইহি

একজন শিক্ষাণুরাগীর গল্প


আলহুমাইরা র. মহিলা মাদরাসা। চট্টগ্রাম শহরের উপর প্রতিষ্ঠিত একটি আদর্শ শিক্ষানিকেতন। যুগোপযোগী শিক্ষা, ঈর্ষণীয় ফলাফল, মনোরম পরিবেশ, ডিজিটাল ক্যাম্পাস, শিক্ষা সহায়ক কর্মস‚চীসহ বহু বৈশিষ্ট্যের সমাগম ঘটেছে এ প্রতিষ্ঠানটিতে। একজন নারীকে শিক্ষিত করা মানে একটি জাতিকে শিক্ষিত করা- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ শিক্ষাকাননটির উত্তরোত্তর সফলতায় বিমুগ্ধ বোদ্ধামহল। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম দেশের সীমানা ছাড়িয়ে পৌঁছে গেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। এখানকার শিক্ষার্থীরা দেশের শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল প্রভৃতিতে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখার পাশাপাশি মিশরের আলআজহার বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ নিয়ে লেখাপড়া করছেন। দুদশকেরও কম সময়ে শ‚ন্য থেকে শুরু হওয়া একটি প্রতিষ্ঠানের এমন সফলতাকে বিরল ঘটনা বলে মনে করেন সকলে। কিন্তু কীভাবে গড়ে উঠেছে সর্বমহলে প্রশংসিত এই শিক্ষাকাননটি? কে সেই মহান ব্যক্তি যার হাত ধরে দাঁড়িয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটি?
জনাব আলহাজ্ব শামসুল হক র.। শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবী ও সংস্কৃতিমনা হিসেবে পুরো চট্টগ্রামজুড়ে রয়েছে তার সবিশেষ খ্যাতি। প্রতিষ্ঠা করেছেন আলহুমাইরা র. মহিলা মাদরাস, ইসলামিয়া তমিজিয়া মাদরাসা ও হিফজখানার মত স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। চান্দগাঁওস্থ এনএমসি হাইস্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সাথে ছিলেন সরাসরি জড়িত। বাইতুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারির পদে সমাসীন ছিলেন আমৃত্যু। নারীশিক্ষার প্রতি তিনি ছিলেন সবিশেষ অনুরাগী। তাই পিছিয়ে পড়া নারীসমাজকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে তিনি গড়ে তোলেন আল-হুমাইরা র. মহিলা মাদরাসা। শুধু প্রতিষ্ঠাই নয় বরংচ তিনি চট্টগ্রাম শহরের প্রাণকেন্দ্রে চান্দগাঁও এর মত গুরুত্বপ‚র্ণ এলাকায় ২৮ শতাংশ ভ‚মি মাদরাসার নামে ওয়াক্ফ করে দেন। পরবর্তিতে তার সন্তানদের পক্ষ থেকে আরো ৮শতাংশ এবং অন্যান্য খাত থেকে ৪ শতাংশ ভ‚মি মাদরাসার নামে ওয়াক্ফ করা হয়। বর্তমানে ৪০ শতাংশ ভ‚মির উপর দাঁড়িয়ে আছে আলহাজ্ব শামসুল হক সাহেবের হাতে গড়া শিক্ষাকানন আলহুমাইরা র. মহিলা মাদরাসা।
১৯৩৯ সালে জন্ম নেয়া এই মানুষটি ছোটবেলা থেকেই ছিলেন সামাজিক ও সংস্কৃতিমনা। বর্তমান সরকারের প্রবাসী ও কল্যাণমন্ত্রী জনাব আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম বিএসসি সম্পর্কে তার ভাগিনা হন। জনাব বিএসসি সাহেবকে নিয়ে তিনি কৈশোরে প্রতিষ্ঠা করেন মিল­াত ক্লাব। সামাজিক কর্মকাÐের পাশাপাশি এ ক্লাবের উদ্যোগে পরিচালিত হতো নানামুখী সাংস্কৃতিক কর্মকাÐ। বাইতুশশরফ আঞ্জুমানে ইত্তেহাদ কতৃক প্রতিবছর আয়োজিত চার দিনব্যাপী তমদ্দুনিক প্রতিযোগীতার রূপকার ছিলেন তিনি।
আলহাজ্ব শামসুল হক র. ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান দেশপ্রেমিক ও সুনাগরিক। বঙ্গবন্ধুর প্রতি ছিল তার অকৃত্রিম ভালবাসা। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতের পর তিনিই সর্বপ্রথম শহিদগণের রূহের মাগফিরাতের জন্য মেজবানির আয়োজন করেন। বঙ্গবন্ধু ও অন্যান্য শহিদগণের ইসালে সওয়াবের জন্য ফি বছর তিনি এই আয়োজন অব্যহত রেখেছিলেন।
আলহাজ্ব শামসুল হক র. কতৃক প্রতিষ্ঠিত আলহুমাইরা র. মহিলা মাদরাসাটি স¤প্রতি এমপিওভুক্ত হয়েছে। আঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা রাখা এই মানুষটি বেঁচে থাকলে আজ সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। প্রাণভরে দুআ করতেন বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য। এমপিওভুক্তির আনন্দে উদ্বেলিত মাদরাসর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে তিনিও শুকরিয়া আদায় করতেন মহান আল­াহ তাআলার।
তিনি আজ বেঁচে নেই। ২০১২ সালের ৩রা জুন পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন ক্ষণজন্মা এই মহামানব। স্বশরীরে না থাকলেও তিনি বেঁচে আছেন তার কর্মে। তার প্রতিষ্ঠিত আলহুমাইরা র. মহিলা মাদরাসা, ইসলামিয়া তমিজিয়া মাদরাসা তার অমরকীর্তি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে স্বগৌরবে। তার সন্তানেরা ধারন করেছেন পিতার আদর্শ। মরহুম পিতার কর্মযজ্ঞকে সামনে এগিয়ে নেয়াই যেন তাদের পরম আরাধ্য। তার নামে প্রতিষ্ঠিত আলহাজ্ব শামসুল হক র. ফাউন্ডেশন কতৃক পরিচালিত হচ্ছে আলহুমাইরা র. মহিলা মাদরাসার কার্যক্রম। একই ফাউন্ডেশনের অধীনে চলছে মানবসেবা ও সামাজিক কর্মকান্ড।
আলহাজ্ব শামসুল হক র. বেঁচে থাকুন তার কর্মে। তার হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানগুলো সাফল্যের স্বর্ণশিখরে আরোহন করবে এমনটাই সকলের আশা।

-    হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ রোকন উদ্দিন
শিক্ষক, আল-হুমাইরা (রা.) মহিলা মাদ্রাসা
খতিব, আল-হুমাইরা (রা.) মহিলা মাদ্রাসা জামে মসজিদ